

ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে হত্যার রহস্য উদঘাটন ও জড়িতদের গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ। রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর দুইটায় কুমিল্লা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান ঘটনায় জড়িত তিনজন ছাড়াও মোহাম্মদ সিয়াম নামে আরও একজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করছে পুলিশ।

গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- সাইফুল ইসলাম তুহিন (১৯), মোজাম্মেল হোসেন ফাহাদ (১৮) ও মোহাম্মদ কামরুল হাসান (১৫)। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতার তিন জন হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ জানায়, আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তিন জন।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাহিদা বেগমের একমাত্র ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে (১৩) হত্যার রহস্য উদঘাটনের দাবি করে পুলিশ। সেইসঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতে আবেদন করার কথা জানিয়েছেন কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘রামিসা হত্যা মামলার মতো অপ্রতিম হত্যা মামলাটিও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে।
পুলিশ জানায়, মায়ের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে অপ্রতিমকে পরিকল্পিতভাবে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা এলাকার নির্জন জঙ্গলে নেওয়া হয়। সেখানে ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার সময় বাধা দিলে তাকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করা হয়। পরে মৃত্যু নিশ্চিত হলে ফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তিন জন।
পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় করা সাধারণ ডায়েরির (জিডি) ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অপ্রতিমকে আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়ার কথা জানায় সে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও পরে কামরুলকে হেফাজতে নেওয়া হয়।
হত্যাকাণ্ডের বর্ণনায় পুলিশ সুপার জানান, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় তুহিন অপ্রতিমকে নির্জন এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হলে সে বাধা দেয়। একপর্যায়ে তুহিন প্রথমে এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, অপ্রতিমের মৃত্যুর পর তার আইফোনটি নিয়ে ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় তুহিন। পরে তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
অপ্রতিম হত্যা মামলার বিষয়ে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে দ্রুত আদালতে পুলিশ প্রতিবেদন দাখিল করা হবে। একই সঙ্গে রামিসা হত্যা মামলার মতো এ মামলাটিও দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের কাছে আবেদন করা হবে।
কুমিল্লার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, তিনি কুমিল্লায় দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনও ঘটনা ঘটলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ২৫০ জন কিশোর গ্যাং সদস্য আটক রয়েছে। পাশাপাশি অন্য অপরাধীদের গ্রেফতার করা হয়।
কম বয়সে সন্তানদের হাতে মোবাইল ফোন না দেওয়ার জন্য অভিভাবকদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানান পুলিশ সুপার। সন্তানদের শাসনের মধ্যে রাখা অভিভাবকদের দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। কিশোর গ্যাং নির্মূলে পুলিশের পাশাপাশি অভিভাবকদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে জানান পুলিশ সুপার।