বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কুমিল্লায় আন্তঃজেলা ডাকাতদলের ১২ সদস্য গ্রেফতার পুলিশের কাজে অবৈধভাবে কেউ বাধা দিতে পারবে না- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কুমিল্লা নাঙ্গলকোটে অভিযোগ বাক্স স্থাপন করেন এমপি মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া কুমিল্লায় নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ কার্ড বিতরণে বৈষম্য: সাংবাদিক সংগঠনগুলোর নিন্দা নিরাপত্তাহীনতায় আছি- ভিপি নুর সবার আগে বাংলাদেশ’ ইশতেহারে নয়টি প্রতিশ্রুতি বিএনপির শেরপুরে সহিংসতায় জামায়াত নেতা নিহতের ঘটনায় অন্তর্বর্তী সরকারের বিবৃতি জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে সরকারের খসড়া অধ্যাদেশ তারেক রহমানকে নিয়ে টাইম ম্যাগাজিনের বিশেষ প্রতিবেদন জাতীয় নির্বাচনে পুলিশ নিরপেক্ষতা ও দায়িত্ববোধের প্রমাণ রাখবে : আইজিপি

নজরদারিতে আসছে স্যাটেলাইট ফোন

নাগরিক খবর ডেস্ক:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২১
  • ৫৯৪ বার পঠিত

মোবাইল ও ইন্টারনেটের পর এবার নজরদারিতে আসছে স্যাটেলাইট ফোন। মূলত দুর্গম অঞ্চলে সন্ত্রাসী গোষ্ঠী যেন মাথাচাড়া দিয়ে ওঠতে না পারে সেই আশঙ্কা থেকেই স্যাটেলাইট ফোন মনিটরিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) গোয়েন্দা প্ল্যাটফর্মে ওই প্রযুক্তি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযুক্তি পণ্যের নাম স্যাটেলাইট ফোন ইন্টারসেপশন।
বাংলাদেশে ব্যক্তিপর্যায়ে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের অনুমতি নেই। তবে অনেকেই এখন অবৈধভাবে বিদেশ থেকে স্যাটেলাইট ফোন এনে তা ব্যবহার করছেন। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও বিভিন্ন অভিযানে স্যাটেলাইট ফোন উদ্ধার করেছে। এ ছাড়া পার্বত্য জেলার দুর্গম অঞ্চলে সন্ত্রাসী বাহিনী ও গোষ্ঠীরা তাদের কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
স্যাটেলাইট ফোন হচ্ছে এক ধরনের বিশেষ ফোন। সিক্রেট এজেন্সি সাধারণত ওই ফোন ব্যবহার করে থাকে। সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে ফোনটি ব্যবহার করা যায়। স্যাট ফোন থেকে স্যাট ফোন বা মোবাইল ও টিএন্ডটিতেও ওই ফোন থেকে কল করার সুবিধা রয়েছে। মোবাইল ও ইন্টারনেট মনিটরিংয়ের মতো এই ফোনও প্রযুক্তির সাহায্যে খুব সহজে নজরদারি করা সম্ভব।
স্যাটেলাইট ফোন আর মোবাইল ফোনের তেমন কোনো পার্থক্য নেই, পার্থক্য শুধু নেটওয়ার্কিং সিস্টেমে। এখানে টেলিস্ট্রিরিয়াল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করা হয় না। কৃত্রিম উপগ্রহ বা স্যাটেলাইটের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে এই নেটওয়ার্ক কাজ করে। এ জন্যই যেকোনো স্থানে বা আবহাওয়ায় এই ফোনের নেটওয়ার্ক কখনো বিকল হয় না। বিশেষ করে সামুদ্রিক জলযান বা যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহৃত স্যাটফোনের ব্যবহার অত্যধিক। এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় এই ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব।
বিশ্বে মাত্র ৭ থেকে ৮টি কোম্পানি স্যাটেলাইট ফোন পরিষেবা দেয়। এসব কোম্পানির মধ্যে গ্লোবালস্টার ৪৪টি স্যাটেলাইট এবং ইরিডিয়াম ৬৬ স্যাটেলাইটের মাধ্যমে স্যাটফোন সেবা দেয়। তবে বিশ্বের অনেক দেশেই স্যাটেলাইট ফোন নিষিদ্ধ আছে। উত্তর কোরিয়া, ভারত, কিউবা, মিয়ানমার, লিবিয়া, সিরিয়া প্রভৃতি অঞ্চলে স্যাটফোন ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
স্যাটেলাইট ফোন ট্র্যাকিং করা গেলে মোবাইল ব্যবহারকারী কোন স্থানে কি অবস্থায় আছে সেটিও জানা সম্ভব। তবে স্যাটফোন মোবাইল ফোনের তুলনায় বহুগুণ বেশি ব্যয়বহুল। স্যাট টু স্যাটফোনে প্রতি মিনিটে দশমিক ১৫ থেকে দুই মার্কিন ডলার ব্যয় হলেও স্যাটফোন থেকে সাধারণ মোবাইল ফোনে কথা বলতে খরচ পড়ে ৩ থেকে ১৪ মার্কিন ডলার। অনেক কোম্পানিতে এই হার প্রায় ১৫ ডলার।
সাধারণ সেলফোনে যেমন যতক্ষণ ইচ্ছা কথা বলা যায়। স্যাটেলাইট ফোনে এমনটা হয় না। একটি কথা বলার পরে ওপর প্রান্তে আরো ২-৩ সেকেন্ড পরে কথা পৌঁছাবে, আবার ওপর প্রান্তে কথা বললে পৌঁছাতে আরো ৩-৪ সেকেন্ড লেগে যাবে। পৃথিবীর সব দেশের সরকার তাদের সাধারণ জনগণকে এই স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করার অনুমতি দেয় না।
বাংলাদেশে স্যটেলাইট ফোন ব্যবহারের অনুমতি দিয়ে থাকে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন। তারা জানিয়েছে, ব্যক্তি পর্যায়ে এখন পর্যন্ত কাউকে ওই বিশেষ ফোন ব্যবহারের অনুমতি দেয়া হয়নি। তবে দেশে অনেকের কাছে স্যাটেলাইট ফোন থাকার অভিযোগ রয়েছে। তথ্য পেলে বিটিআরসি আইনগত ব্যবস্থা নিয়ে থাকে।
দেশে সবচেয়ে বেশি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার হয়ে থাকে গভীর সমুদ্রে দায়িত্বে থাকা বাহিনীর সদস্যরা। এসব বৈধ। কারণ গভীর সমুদ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না। ওইসব এলাকায় যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম স্যাটেলাইট ফোন। এর বাইরে বাকি সব স্যাটেলাইট ফোনই অবৈধ।
কয়েক বছর আগে চট্টগ্রামের বন্দরটিলা থেকে একটি স্যাটেলাইট ফোনসহ ইয়াবা পাচার চক্রের ৩ সদস্যকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। উদ্ধার হওয়া স্যাটেলাইট ফোনটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের বহুল ব্যবহৃত ইরিডিয়াম ব্র্যান্ডের। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়ানোর জন্য বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের মাদক পাচার চক্রের সদস্যরা ওই ফোন ব্যবহার করছিল। এরপর থেকেই ওই ফোন নিয়ে নড়েচড়ে বসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
এ ছাড়া সন্ত্রাসী দৌরাত্ম্য রুখতে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়িতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একাধিক অভিযান পরিচালনা করেছে। ওই সময় সেখানে ৪টি স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়। তবে প্রযুক্তিপণ্যের অভাবে তখন ওই ফোন নজরদারি করা সম্ভব হয়নি। স্যাটেলাইট ফোন ব্যবহার করে মূলত সন্ত্রাসীরা তাদের অবৈধ কার্যক্রম পরিচালনা করত।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com