বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৭:০৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নীরবতাই বিচার- পুলিশ পরিদর্শক কামরুল ইসলাম কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাদুল বারী আবুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বন্ধু মহল কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার, পালিয়ে গেল স্বামী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা কুমিল্লা থিরাপুকুরপাড়ে টহলরত পুলিশকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার ৪ বাবুবাজার ফ্লাইওভারের ওপরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন উদবাতূল বারী আবু কুমিল্লা নিমসারে হাইওয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ী ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার ১৯ তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো পঙ্গু শাহাবুদ্দীনের বাড়িতে হাজির হলেন ছাত্রদল নেতা আসিফ

কিশোরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র

নাগরিক অনলাইন ডেস্কঃ
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
  • ৬৪৩ বার পঠিত

এজাহারভুক্ত ১১ জনের মধ্যে ৪ জনকে অব্যাহতির সুপারিশ। এর মধ্যে মুশতাক আহমদকে অব্যাহতি দেওয়া হয় মারা যাওয়ায়।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অধিকতর তদন্তের পর কার্টুনিস্ট আহমেদ কবির কিশোর ও রাষ্ট্রচিন্তার সদস্য দিদারুল ইসলাম ভূঁইয়ার সঙ্গে আরও পাঁচজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দিয়েছে পুলিশ। তাঁরা হলেন সুইডেনপ্রবাসী সাংবাদিক তাসনিম খলিল, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সাবেক পরিচালক মিনহাজ।

মান্নান, হাঙ্গেরিপ্রবাসী সামিউল ইসলাম খান ওরফে স্যাম ওরফে জুলকার নাইন, আশিক ইমরান ও ওয়াহিদুন নবী।

ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) অধিকতর তদন্ত শেষে গত বুধবার আদালতে সাতজনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়।

এর আগে রমনা থানা–পুলিশ এই মামলার তদন্ত শেষে গত ৪ ফেব্রুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দিয়েছিল। তাতে কার্টুনিস্ট কিশোর, লেখক মুশতাক আহমেদ ও রাষ্ট্রচিন্তার দিদারুল ভূঁইয়াকে আসামি করা হয় এবং আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এরপর ২৫ ফেব্রুয়ারি কারাবন্দী মুশতাক আহমেদ মারা যান। এ কারণে তাঁকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এ ছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় জার্মানিপ্রবাসী ব্লগার আসিফ মহিউদ্দিন ও যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী সাংবাদিক সাহেদ আলমকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এজাহারভুক্ত আরেক আসামি ফিলিপ শুমাখার প্রকৃত পূর্ণাঙ্গ নাম ও ঠিকানা না পাওয়ায় তাঁকে অভিযোগপত্রে রাখা হয়নি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। অভিযুক্তদের মধ্যে কিশোর, মিনহাজ ও দিদারুল জামিনে মুক্ত আছেন। বাকিদের পলাতক দেখানো হয়েছে।

তদন্তসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানায়, আসামিদের মধ্যে সামিউল ইসলাম ওরফে সামি কাতারভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরায় সম্প্রতি বাংলাদেশ–সম্পর্কিত একটি প্রতিবেদনের পর আলোচনায় আসেন। এরপর তাঁর বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের তথ্য পায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

সিটিটিসির অতিরিক্ত কমিশনার মো. আসাদুজ্জামান গতকাল শুক্রবার বলেন, দুই-তিন দিন আগে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে করা মামলায় সাতজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। আসামিরা সাইবারজগতে অনেক দিন ধরে গুজব ছড়িয়ে আসছিলেন।

গত বছরের মে মাসে কিশোর, মোশতাক, দিদারুল ও মিনহাজ মান্নানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। এরপর তাঁরাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করে র‌্যাব। তাতে ফেসবুক পেজ ব্যবহার করে ‘রাষ্ট্রবিরোধী পোস্ট, মহামারি করোনা, সরকারদলীয় বিভিন্ন নেতার কার্টুন দিয়ে গুজব ছড়িয়ে’ জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি ও অপপ্রচারের অভিযোগ আনা হয়।

পুলিশের অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্তরা ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ পেজ ছাড়াও ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে কটূক্তি, করোনাভাইরাস সম্পর্কে গুজব ছড়িয়ে রাষ্ট্র ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সিটিটিসির একাধিক কর্মকর্তা জানান, ‘আই অ্যাম বাংলাদেশি’ ফেসবুক পেজের অন্যতম এডিটর ছিলেন ‘আমি কিশোর’। গত বছরের ৫ মে কার্টুনিস্ট কিশোরকে গ্রেপ্তার করে র‍্যাব। এরপর তাঁর কাছ থেকে মুঠোফোন, কম্পিউটার ও বিভিন্ন সিডি জব্দ করা হয়। পরে তাঁর ফেসবুক মেসেঞ্জার ও হোয়াটসঅ্যাপের চ্যাটিং লিস্ট পরীক্ষা করে তাসনিম খলিল, সামিউলসহ কয়েকজনের নাম পায় পুলিশ। প্রথম তদন্তে সামিউলের সঠিক নাম-ঠিকানা বের করতে পারেনি পুলিশ।তাই সামিউলসহ আটজনকে অব্যাহতি দিয়ে রমনা থানার পুলিশ কার্টুনিস্ট কিশোর, মুশতাক আহমেদ ও দিদারুল ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। আদালত সেই অভিযোগপত্র গ্রহণ না করে মামলাটির অধিকতর তদন্তের জন্য সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন বিভাগকে দায়িত্ব দেন।

কিশোরের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া গতকাল  বলেন, পুলিশের দেওয়া প্রথমবারের অভিযোগপত্রে কার্টুনিস্ট কিশোরসহ যে তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল, নতুন অভিযোগপত্রে একই ব্যক্তিদের নাম অন্তর্ভুক্ত করার কিছু নেই। ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সর্বোচ্চ ৭৫ দিনের মধ্যে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু ট্রাইব্যুনালের অনুমতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কোনোবারই অভিযোগ দেওয়া হয়নি। তাই দুবারের অভিযোগপত্রই অবৈধ।

প্রসঙ্গত, কার্টুনিস্ট কিশোর গত ৪ মার্চ জামিনে মুক্তি পান। এরপর তিনি বেশ কিছুদিন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে বাসা থেকে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে নির্যাতন করা হয় এবং রমনা থানায় হাজির করে মামলা দেওয়া হয়। এ অভিযোগে তিনি ১০ মার্চ ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলা করেন। মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com