মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
নীরবতাই বিচার- পুলিশ পরিদর্শক কামরুল ইসলাম কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান উদবাদুল বারী আবুকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানায় বন্ধু মহল কুমিল্লা চৌদ্দগ্রামে গৃহবধুর লাশ উদ্ধার, পালিয়ে গেল স্বামী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রেমিকার ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যুর ঘটনায় দুইজনকে আসামি করে হত্যা মামলা কুমিল্লা থিরাপুকুরপাড়ে টহলরত পুলিশকে ছুরিকাঘাত কুমিল্লায় স্কুলছাত্র গুলিবিদ্ধের ঘটনায় পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেফতার ৪ বাবুবাজার ফ্লাইওভারের ওপরে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে যুবকের মৃত্যু চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন উদবাতূল বারী আবু কুমিল্লা নিমসারে হাইওয়ে পুলিশের উপর হামলা ও গাড়ী ভাঙচুরের ঘটনায় গ্রেফতার ১৯ তারেক রহমানকে শুভেচ্ছা জানানো পঙ্গু শাহাবুদ্দীনের বাড়িতে হাজির হলেন ছাত্রদল নেতা আসিফ

পাবনায় গৃহবধু‌কে হত‌্যা ক‌রে লাশ গু‌মের চেস্টা- স্বামী গ্রেফতার

পাবনা প্রতি‌নি‌ধি:
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৬ মে, ২০২১
  • ৮৯৯ বার পঠিত
পাবনায় স্ত্রী‌কে হত‌্যা ক‌রে লাশ গু‌মের চেস্টার অ‌ভি‌যো‌গে স্বামী‌কে গ্রেফতার ক‌রে পু‌লিশ।
শনিবার (১৫ মে) সকাল দশটার দিকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
নিহত কানিজ ফাতেমা (২০) বেড়া পৌর সদরের শম্ভুপুর মহল্লার আব্দুল কাদেরের মেয়ে। আটক রাকিবুল ইসলাম সাঁথিয়া পৌর সদরের ফেছুয়ান মহল্লার চাঁদু শেখের ছেলে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, ৭-৮ মাস আগে রাকিবুলের সঙ্গে বিয়ে হয় ফাতেমা খাতুনের। বিয়ের পর থেকে তাদের মনোমালিন্য ও পারিবারিক কলহ চলছিল। গত ২৮ এপ্রিল স্ত্রী ফাতেমাকে তার বাবার বাড়িতে রেখে যায় রাকিবুল। ঈদের আগে নিয়ে যাওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যেই স্ত্রীকে হত্যার ছক কষতে থাকেন রাকিবুল।
তিনি বলেন, ঈদের আগের দিন ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যার পর বেড়ানোর কথা বলে মোবাইল ফোনে স্ত্রী ফাতেমাকে বাড়ির বাইরে বের হতে বলেন রাকিবুল। তবে তার বাইরে বের হওয়ার কথা তার পরিবারের কাউকে বলতেও নিষেধ করেন। পরে স্বামীর ডাকে ফাতেমা বাইরে বের হলে তাকে মোটরসাইকেলে নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলার করমজা ব্রিজের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে নিরিবিলি জায়গা পেয়ে মোটরসাইকেল থামিয়ে স্ত্রীকে দাঁড় করিয়ে রেখে একটু দূরে সরে যায়। কিছুক্ষণ পর পেছন থেকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে স্ত্রী ফাতেমাকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন রাকিবুল।
পরে রাস্তার পাশে ইছামতি নদীর ক্যানেলে কচুরিপানার মধ্যে ফাতেমার মরদেহ লুকিয়ে রেখে বাড়ি চলে যান তিনি। যাওয়ার আগে স্ত্রী ফাতেমার মোবাইল ফোন থেকে ‘আমাকে মাফ করো, অন্য একটি ছেলের সাথে আমার সম্পর্ক আছে, তাই চলে গেলাম’ এই কথা লিখে নিজের ফোনে ও ফাতেমার ভাইয়ের ফোনে মেসেজ পাঠান রাকিবুল।
পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মেয়ের খোঁজ না পেয়ে বাবা কাদের বেড়া থানায় একটি নিখোঁজ ডায়রি করেন। এরপর তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে স্বামী রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তিনি কিছুই জানেন না বলে জানান। তিনি পুলিশকে তার স্ত্রীর মেসেজের কথাও জানান। এরপরই সন্দেহ হয় পুলিশের। শুক্রবার (১৪ এপ্রিল) রাতে স্বামী রাকিবুলকে আটক করে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করার এক পর্যায়ে স্ত্রীকে হত্যার কথা স্বীকার করেন তিনি। পরে তার দেয়া স্বীকারোক্তি ও তথ্য মতে শনিবার (১৫ মে) সকালে নদীর ক্যানেল থেকে ফাতেমার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
হত্যার কারণে সম্পর্কে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম জানান, আটক রাকিবুলকে জিজ্ঞাসাবাদে যেটুকু মনে হয়েছে বিয়ের পর স্ত্রীকে নিয়ে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ নিয়ে মনোমালিন্য ও সাংসারিক অস্থিরতা ছিল। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে চেয়েছিলেন রাকিবুল।
নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং এ ঘটনায় নিহতের বাবা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান বেড়া থানার ওসি অরবিন্দ সরকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
© All rights reserved © 2020 nagorikkhobor.Com
Theme Dwonload From ThemesBazar.Com